ব্লু স্যাফায়ার / নীলা

BLUE SAPPHIRE: নীলাBLUE SAPPHIRE3

নীলা স্বচ্ছ উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত রত্ন । এটির বৈশিষ্ট স্বাদহীন, শুকনো এবং শীতল । নীলাকে আরবী/উর্দু/ফার্সীতে কবুদ বা ইয়াকুত বলে । ইহা নীলকান্তমণি নামেও পরিচিত । নীলা কয়েক প্রকারের যেমন-ইন্দ্রনীলা, ষ্টারনীলা, অপরাজিতা নীলা, পীতাম্বরনীলা, গঙ্গাজলনীলা, রক্তমুখী নীলা ইত্যাদি । বর্ণের দিক থেকে উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত রঙ-এর সাথে রক্তের মত আভাযুক্ত, হরিদ্রাভ, শ্বেত কিঞ্চিৎ নীল আভাযুক্ত প্রভৃতি বর্ণের হয়ে থাকে । উজ্জ্বল নীল আভাযুক্ত নীলাই শ্রেষ্ঠ । নীলা বা স্যাফায়ার কোরানডাম (Corundum) গ্রুপ এর রত্ন । তামিল শব্দ কুরুবিন্দম বলতে বোঝায় ইংরেজি কোরানডাম নামের একটি খনিজ পদার্থ । তেলুগু ভাষায় এরই নাম কুরুন্দীম। কোরানডামের রাসায়নিক উপাদান অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড ।

মূল রাসায়নিক উপাদান হিসেবে বিচার করলে নীলা আর চুনি (Rubby) একই অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড । দুটাকেই বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে কোরানডাম । কিন্তু চুনির লাল রঙ তৈরী হয় কোরানডামে সামান্য ক্রোমিক অক্সাইড মিশে থাকার জন্য আর নীলার নীল রঙের জন্য দায়ী সামান্য টাইটানিয়াম অক্সাইড । এছাড়া বহুরকম ভেজাল মিশ্রণ থাকতে পারে আর তার ফলে কোরানডামের রঙ হয়ে ওঠে সবুজ, হলুদ, বেগুনি, গোলাপী ইত্যাদি । তবে যে কোন নীলাই অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ ছাড়া ধারণ করা উচিত নহে । কারণ এটা শুভ ফল দান করলে খুবই শুভ ফল দেয় । আবার অশুভ ফল দিলে অত্যন্ত অশুভ হয় । আসল নীলা চেনার উপায় নীলাকে একটি দুগ্ধ পূর্ণ পাত্রে রাখলে সেই পাত্রের দুধকে নিজ আভায় পূর্ণ করে এবং আসল বা খাটি নীলার উপর সূর্য্যের রশ্মি পড়লে নীল রঙ্গের জ্যোতি দেখা যায় । বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসিডের মধ্যে দিয়ে নীলাকে পরীক্ষা করা যায়। এসিডে নীলার তেমন কোন প্রতিক্রিয়া হয় না ।

উপাদান (Chemical Composition) : এ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড এবং স্যাফায়ারের অন্যান্য উপাদান সহ নীলার সৃষ্টি।

কাঠিন্যতা (Hardness) :

আপেক্ষিক গুরুত্ব (Specific Gravity) : ৩.৯৯-৪.০০

প্রতিসরণাংক (Refractive Index) : ১.৭৬৬-১.৭৭৪

বিচ্ছুরণ (Dispersion) : ০.০১৮

প্রাপ্তিস্থান : প্রাচীন রত্ন শাস্ত্রে জানা যায়, নীলা কলিঙ্গ ও কালপুরে পাওয়া যেত । তবে বর্তমানে প্রাচীন কলিঙ্গ ও কালপুরে আর নীলা পাওয়া যায় না । কাশ্মীরের প্রায় সাড়ে চার হাজার মিটার উচু নীলার খনি সারা বছরই বরফে ঢাকা থাকে । ফলে বছরে শুধু তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খনিতে কাজ-কর্ম হয় ।

কাশ্মীর অঞ্চলেও ভাল জাতের নীলা পাওয়া যায় । সেখানের দুর্গম জানস্ক পর্বতের কোলে নীলার খনি বহুকাল ধরে মানুষকে আকর্ষণ করছে । অষ্ট্রেলিয়ার অ্যানিকি, আমেরিকার মনটানা, সিংহলের রত্নপুরাতেও বেশ উৎকৃষ্ট শ্রেণীর নীলা পাওয়া যায় । এছাড়াও নীলা পাওয়া যায় জার্মানীতে । কাশ্মীরি নীলা পৃথিবী বিখ্যাত ।

উপকারিতা: জ্যোতিষ বিজ্ঞান রাশিচক্রে জাতক/জাতিকার মকর ও কুম্ভ রাশির রত্ন । শনির অশুভত্বের কারকতা থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় । এটি যাদের উপযোগী তাদেরকে অধিক ধনশালী ও ঐশ্বর্যশালী করে । মনকে শক্তিশালী ও সাহস বৃদ্বি করে । যাদেরজন্মসময়শনিমন্দঅবস্থানেছিলতাদেরজন্যনীলাবানীলকান্তমণিঅত্যন্তফলদায়ক।

কয়েকটি বিখ্যাত নীলা

ষ্টার অব ইন্ডিয়া (Star of India): ষ্টার অব ইন্ডিয়া নামে খ্যাত সুবিখ্যাত ৫৬৩ ক্যারেট ওজনের নীলা খন্ডটি বর্তমানে আমেরিকার নিউইয়র্ক প্রাকৃতিক বিজ্ঞান যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে ।

দ্বিতীয় চার্লেসের নীলা (The Nila of 2nd Charls): রানী ভিক্টোরিয়ার রাজ্যাভিষেকের সময় তাঁর মুকুটের সামনের দিকের মাঝখানে বসানো ছিল একটা উজ্জ্বল নীলা । চারকোণা এই নীলাটির দৈর্ঘ্য দেড় ইঞ্চি ও প্রস্হ এক ইঞ্চি । তারপর রাজা পঞ্চম জর্জ ঐ মুকুটের নীলার জায়গায় বসিয়েছিল একটা হীরা । আর নীলার প্রথম মালিক নাকি দ্বিতীয় চার্লস, যাঁর কাছ থেকে চুরি করে ফ্রান্সে পালিয়ে গিয়েছিলেন দ্বিতিয় জেম্স এডওয়ার্ড, ১৬৮৮ সালে । তাই এই নীলাটার নাম “দ্বিতিয় চার্লসের নীলা”।

এডওয়ার্ড নীলা (The Nila of Edward): সবচেয় পুরনো নীলার নাম ‘এডওয়ার্ড নীলা’ । কারণ ১৪০২ সালে এডওয়ার্ডের অভিষেকের সময় তাঁর হাতের আংটিতে এই নীলা রত্নটিকে প্রথম দেখা গিয়াছেল ।

* জানা যায়, কাশ্নীরের খনিতে ১৮৮৭ সালে পাওয়া সবচেয়ে বড় নীলার ওজন ছিল ৯৩০ ক্যারেটর মত । ১৯৮৬ সালে প্রায় ৭ লক্ষ ক্যারেট ও ১৯৫১ সালে সোয়া দুই লক্ষ ক্যারেট ওজনের পরিমাণে নীলা পাওয়া গিয়েছেল এই খনি থেকে ।

* ১৯৯০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইনকিলাব-এর এক খবরে প্রকাশ, বার্মায় (মায়ানমার) ৯৭৯ ক্যারেট ওজনের নীলা বা নীলকান্তমনি পাওয়া গেছে ।

হীরার মতো বেশকিছু বিখ্যাত নীলা নিয়েও নানারকম কিংবদন্তী রয়েছে । প্রাচীনকাল থেকে নীলাকে ভালবাসার বাধনে আবদ্ধ করার মন্ত্রপূর্তমণি হিসাবে মনে করা হয় । এই ভাবেই নীলা জ্যোতিষশাস্ত্রে শনির জন্য ব্যবহার ছাড়াও অন্যান্য কারণেও এর ব্যবহার হয় । যথার্থ ব্যবহারে নীলা সত্যিই মানবের কল্যাণ করে ।

সঠিক রাসায়নিক বিশ্লেষণ, শুভ তিথীযুক্ত দিন ব্যতীত এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে শোধন না করে যে কোন রত্ন পাথর ধারণ করা অনুচিত। এতে করে শুভ ফল পাবেন না । শোধন প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ তথাকথিত প্রচলিত ভ্রান্ত সাধারণ নিয়মে দুধ, মধু, গোলাপজল, জাফরান , আতর, জম জম কূপের পানি, নদীর পানি কিংবা গঙ্গা জল ইত্যাদি দ্রব্য / বস্তু দ্বারা শোধন কখনও করা হয় না বা করার বিধান শাস্ত্রে নেই ।

আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ক্রয়কৃত রত্ন পাথর আমরা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে শোধন করে দিয়ে থাকি বিনিময়ে কোন অর্থ গ্রহণ করি না ।